ই-পেপার

ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দাবানালে ঘরছাড়া হাজারো মানুষ

জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ক্রোয়েশিয়া এবং গ্রিসজুড়ে

আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৫
৫ ভিউ
ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দাবানালে ঘরছাড়া হাজারো মানুষ

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ক্রোয়েশিয়া এবং গ্রিসজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। চলতি বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে একের পর এক তাপপ্রবাহের ফলে প্রায় ৫ লাখ হেক্টর জমি পুড়ে যাওয়ার পরপরই এই দাবানলের ঘটনাগুলো ঘটল।

শুক্রবার(১৪ আগস্ট) ক্রোয়েশিয়ায় প্রবল বাতাসের কারণে দাবানল পর্যটন শহর ওমিশ-এর কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বসতি ও বনাঞ্চল আগুনের কবলে পড়ে এবং বিভিন্ন ভবন ও গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নিকটবর্তী শহর স্প্লিট-এ ১৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সব মিলিয়ে ক্রোয়েশিয়ার উপকূলীয় এলাকার গ্রামগুলো থেকে প্রায় ২ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দেশটির দমকল বাহিনীর প্রধান স্লাভকো টুকাকোভিচ এই দাবানলকে ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জাতীয় রেডিওকে তিনি বলেন, দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত ভীতিকর। অনেক বাড়িঘর, ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, গাড়ি এবং ডাঙায় রাখা নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের সময় ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ আগুনের ভয়াবহতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দমকল কর্মীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগুন বিদ্যুতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। দমকল কর্মীরা যা কিছু রক্ষা করতে পেরেছেন, তা সত্যিই এক অলৌকিক ঘটনা।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার(১৩ আগস্ট) যুক্তরাজ্যে বছরের উষ্ণতম দিন রেকর্ড করার পর শুক্রবার মধ্য ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস এলাকায় ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। আগুনের কারণে হাজার হাজার জরুরি কল আসে এবং অনেককে জ্বলন্ত বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হয়। অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, এ ঘটনায় ১৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্টোরব্রিজ শহরে বৃহস্পতিবার এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়। টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, আগুন বাড়িঘর গ্রাস করছে এবং অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। পোড়া দেয়ালের ভেতরে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। স্থানীয় আইনপ্রণেতা ক্যাট একলস বিবিসিকে জানিয়েছেন, এতে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

জেন ব্যাক্সটার বিবিসি রেডিওকে বলেন, তারা ভেবেছিল আগুনের গতিপথ বদলে যাচ্ছে এবং কোন দিকে তা ছড়াচ্ছে তা তাদের জানা ছিল না। তাই পরিস্থিতি এমন ছিল যে ‘প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়েই বেরিয়ে পড়ুন’। এদিকে পশ্চিম জার্মানিতে বেলজিয়াম সীমান্তের কাছে ‘গে’ গ্রামের দিকে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ প্রায় ১,৮০০ মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে, ল্যান্ডেস অঞ্চলের পাইন বনে লাগা আগুন থেকে বাঁচতে ৫২৫ জন গ্রামবাসী পালিয়ে গেছেন। এই অঞ্চলটি এ বছর আগেই বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছিল। আঞ্চলিক কর্মকর্তা জিলস ক্লাভরুল সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার শুরু হওয়ার পর থেকে আগুন ১,১০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। এছাড়া লুগলন গ্রামের কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

ক্লাভরুল বলেন, পরিস্থিতি অনুকূল নয়। ৫০০ দমকলকর্মী ও ছয়টি বিমান আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আরাগন এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ একটি মঠ থেকে একাদশ শতাব্দীর তিনজন রাজার দেহাবশেষ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। উত্তর গ্রিসের সিভিরি নামক সমুদ্রতীরবর্তী শহরে মানুষজন যাদের কেউ কেউ শিশু বা পোষা প্রাণী আঁকড়ে ধরে ছিলেন। তারা ছোট নৌকা ও ডিঙিতে চড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে রওনা হন। এ সময় আগুন বনভূমি গ্রাস করছিল এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী মেঘমুক্ত আকাশকে গাঢ় ধূসর রঙে ঢেকে ফেলেছিল।

কোস্টগার্ড জানিয়েছে, শহরটি থেকে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষকে নৌকায় করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গ্রিসের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর থেসালোনিকির দক্ষিণে অবস্থিত এই শহরটি বনভূমি, জলপাই বাগান ও সমুদ্রসৈকতে ঘেরা এক মনোরম উপদ্বীপে অবস্থিত।

বিজ্ঞানীরা ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের পেছনে থাকা তীব্র গরম ও খরাকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন। এ বছর ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিস এবং বলকান অঞ্চলগুলো তাপপ্রবাহের কারণে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা।