ই-পেপার

কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার প্রস্তাব

কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম ‘সহযোগী

আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৫
৪৮ ভিউ
কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার প্রস্তাব

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ারপ্রস্তাব দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন। বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার কোনো বিধান বর্তমানে ইইউর চুক্তিগুলোতে নেই। ফলে ফন ডার লিয়েনের এই প্রস্তাবকে ইইউর দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জোটটি ঐতিহাসিকভাবে সদস্যপদের ক্ষেত্রে নমনীয় বা মধ্যবর্তী কোনো কাঠামো তৈরিতে অনাগ্রহী ছিল।

ফন ডার লিয়েন বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থায় বিভাজন তৈরি হওয়ায় ইউরোপকে অংশীদারত্বের সম্পর্ক নতুনভাবে ভাবতে হবে। কানাডা ও ইউরোপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, আর্কটিক অঞ্চল ও ভূরাজনীতির মতো বিষয়ে একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ইউক্রেন, প্রতিরক্ষা, কাঁচামাল ও সরবরাহব্যবস্থার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও কানাডা ও ইউরোপ একসঙ্গে কাজ করেছে। বিশেষ করে গণতন্ত্রের প্রতি দুই পক্ষের অভিন্ন অঙ্গীকার রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফন ডার লিয়েন বলেন, ‘আমি কানাডাকে ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য করার দরজা খুলতে আপনার সঙ্গে কাজ করতে চাই।’ তিনি জানান, কানাডা ও ইইউ উৎপাদনশিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াবে।

প্রস্তাবিত অংশীদারত্বের আওতায় ‘স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং’ বা উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা, একটি প্রযুক্তি জোট এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের পরিকল্পনার কথাও জানান ফন ডার লিয়েন। আর্কটিক অঞ্চলকে যৌথ উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবেও গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এর আগে চলতি সপ্তাহে ইইউর সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে কানাডা ইইউর পূর্ণ সদস্য হতে চাইছে না। বৃহস্পতিবার স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে কার্নির।

কার্নির ইউরোপ সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। গত মাসে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ঘটনা ঘটে।

ফন ডার লিয়েন বলেন, কানাডার সঙ্গে এই অংশীদারত্ব ‘কারও বিরুদ্ধে নয়’। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য উদ্বেগ এড়াতে তিনি এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ইইউর সঙ্গে কানাডার প্রস্তাবিত নতুন সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ ‘সহযোগী সদস্য’ মর্যাদা বর্তমানে ইইউর বিদ্যমান চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত কোনো সদস্যপদ নয়।