বিশ্বকাপে মার্কিন দলের সাফল্যে মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে মার্কিন নারী ফুটবলারদের মুখে। টুর্নামেন্টে পুরুষ দলের আয় থেকে বিশাল অঙ্কের অর্থ পেতে যাচ্ছে নারী ফুটবল দল।
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপে মার্কিন দলের সাফল্যে মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে মার্কিন নারী ফুটবলারদের মুখে। টুর্নামেন্টে পুরুষ দলের আয় থেকে বিশাল অঙ্কের অর্থ পেতে যাচ্ছে নারী ফুটবল দল। যে অর্থের সুবাদে নারী দলের প্রত্যেকে কোটিপতি হতে যাচ্ছেন।
সিয়াটলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপের সহস্বাগতিকরা আসরের শেষ ষোলোতে ওঠায় ফিফা থেকে ১৬ মিলিয়ন ডলার অর্থ পাবে। কিন্তু বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া মার্কিন ফুটবলাররা ব্যক্তিগতভাবে খুব বেশি লাভবান হতে পারছেন না। ফোলারিন বালোগানদের বিশ্বকাপের অর্জিত অর্থের সমান ভাগ দিতে হবে নারী ফুটবল দলকে। জানা গেছে, দ্য ইয়াংকস দলের বিশ্বকাপের অর্থের ২০ শতাংশ দিতে হবে ইউএস সকার ফেডারেশনকে (ফুটবল ফেডারেশন)। অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ অর্থ নারী দলের সঙ্গে সমান ভাগাভাগি করতে হবে। এতে পুরুষ ও নারী দল– উভয়ই ৬.৪ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। ফলে বিশ্বকাপে অংশ না নিয়েও নারী ফুটবলারদের প্রত্যেকে পুরুষ ফুটবলারদের সমান প্রায় আড়াই লাখ ডলার পাবেন।
পুরুষ দলের সমান পারিশ্রমিক দাবিতে মার্কিন নারী ফুটবলারদের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফলে ২০২২ সালের মে মাসে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন এবং নারী ও পুরুষ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ইউনিয়ন এক যৌথ চুক্তিতে সম্মত হয়। বিশ্বে প্রথম নজির হিসেবে এই ঐতিহাসিক চুক্তি অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী ফুটবলাররা ফিফা টুর্নামেন্ট থেকে তাদের অর্জিত আয় সমান ভাগাভাগি করে নিতে সম্মত হয়।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, নারীদের প্রাপ্য এই অর্থ অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা হবে না। কারণ ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের জন্য মার্কিন দল এখনও যোগ্যতা অর্জন করেনি। তারা এখনও বাছাই পর্বে লড়ছে। বাছাই পর্ব শেষে বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে চূড়ান্ত মার্কিন দল ঘোষণা করা হবে। ওই দলে সুযোগ পাওয়া নারীরাই তাৎক্ষণিকভাবে কোটিপতি হয়ে যাবেন। মার্কিন বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া নারীরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি টাকায় তিন কোটি টাকার বেশি অর্থের মালিক বনে যাবেন। নারী বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগ পর্যন্ত নারী ফুটবলারদের প্রাপ্য অর্থ একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা থাকবে, যে অ্যাকাউন্টে অর্থ রাখলে সুদ হিসেবে সেখানে আরও কিছু অর্থ যোগ হবে। তবে ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সুদ বাবদ বাড়তি অর্থ পুরুষ ও নারী উভয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে।
অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিতর্ক
এদিকে পুরুষ বিশ্বকাপের অর্থ নারী ফুটবলারদের মধ্যে ভাগাভাগি করার খবরে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের মত, ফুটবলারদের পারিশ্রমিকের অর্থ তাদের অর্জিত আয়ের ওপর ভিত্তি করেই হওয়া উচিত। অন্য পক্ষের মত, পুরুষ দলের তুলনায় নারী দলের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স অনেক ভালো এবং তারা অনেক বেশি ধারাবাহিক। পুরুষ দল যে এখনও বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর গণ্ডিই পেরোতে পারছে না, অন্যদিকে নারী ফুটবল দল চারবার বিশ্বকাপ জিতেছে। এ কারণে ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে পুরুষ বিশ্বকাপের আয়ে নারী ফুটবলাররা ভাগ পাওয়ার উপযুক্ত।
ফিফা পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপে আয়ের ব্যবধান
জানা গেছে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে (রাউন্ড অব সিক্সটিন) পৌঁছানোর জন্য মার্কিন পুরুষ দল ১৩ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। অথচ ২০২৩ নারী বিশ্বকাপে একই পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য মার্কিন নারী দল আয় করে মাত্র ১.৮৭ মিলিয়ন ডলার। তবে যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ ফুটবলারদের এই ভেবে মন ভালো হতে পারে যে, একটি বাদে সব বিশ্বকাপেই মার্কিন নারী দল সেরা তিন দলের একটি ছিল।