অর্থনীতি

আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু মসলার বাজারে অস্বস্তি

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Thursday, May 21, 2026 5

অনলাইন ডেস্ক : আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু কয়েকটি মসলা পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি। বিশেষ করে দাম বেড়েছে জিরা, এলাচ ও লবঙ্গের। এক মাসের ব্যবধানে জিরার কেজিতে ৫০ টাকা, লবঙ্গে ৫০ থেকে ১০০ ও এলাচের কেজিতে ৩০০ টাকার মতো দাম বেড়েছে। এতে ক্রেতাকে মসলা কেনার জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

 

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় মসলার চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে দামও বাড়তি। আমদানিকারকদের দাবি, আমদানি খরচ বাড়লেও বাজারে দাম স্বাভাবিক। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবছর ঈদের আগে মসলার চাহিদা বাড়লেই বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। অনেক সময় কৃত্রিম সংকটও তৈরি করা হয়। সরকারের যথাযথ নজরদারি থাকলে বাজারে এই পরিস্থিতি হতো না। বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানি থেকে খুচরা পর্যায়ে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রতিবছর দেশের মসলার বাজারে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চাহিদা বেড়ে যায়। এই বাড়তি চাহিদা ঘিরে পাইকারি থেকে খুচরা পর্যন্ত পুরো বাজারে তৈরি হয় বাড়তি উত্তাপ। যদিও গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী, তেজকুনিপাড়া ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব দোকানে রয়েছে ভরপুর মসলা পণ্য। দোকানে দোকানে ক্রেতার ভিড়ও রয়েছে।

 

খুচরা ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মানভেদে প্রতি কেজি জিরা ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। মাসখানেক আগে জিরার কেজি ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। একইভাবে এক মাস আগে এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হওয়া লবঙ্গের কেজি এখন এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানে কেজিতে অন্তত ৩০০ টাকা বেড়ে এলাচ বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ৪০০ থেকে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকায়। কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকায়। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া প্রতি কেজি গোলমরিচ এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩৫০ টাকা, তেজপাতা ১৮০ থেকে ২২০, হলুদ ২৫০ থেকে ৪০০, আদা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, রসুন ৬০ থেকে ২০০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

 

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক বছরের ব্যবধানে দারুচিনির দাম ৫, লবঙ্গের ৩, এলাচের ৫, আদার ১৩, শুকনো মরিচের গড়ে ৩৫ এবং তেজপাতার ২১ শতাংশ দর বেড়েছে। তবে রসুনের ২০ ও জিরার ৫ শতাংশ দর কমেছে।

 

মসলার দাম বাড়লেও বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। আমদানিও হচ্ছে নিয়মিত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে আমদানি হয়েছে পাঁচ লাখ ৭৪ হাজার টন (১৪ ধরনের মসলা)। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই (জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত) আমদানি হয়েছে প্রায় দুই লাখ টন।

 

ক্রেতার অভিযোগ, বাজারে মসলার অভাব নেই। ঈদের চাহিদা ঘিরে খুচরা থেকে পাইকারি সব ব্যবসায়ী দাম বাড়াচ্ছেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মিলন হোসেন বলেন, আগে যে টাকায় এক মাসের মসলা কিনতাম, এখন সেই টাকায় মসলায় এক সপ্তাহের বেশি চলে না।

 

কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান বলেন, কয়েক দিন ধরে মানুষ মসলা বেশি কিনছে। কেউ কেউ কিনে গ্রামেও পাঠাচ্ছে। এতে বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাছাড়া পাইকারি বাজারেও দাম বেড়েছে। এ কারণে ছোট ব্যবসায়ীদের কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে।

 

আমদানিকারকরা জানান, দেশের মসলার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। ডলার সংকট, এলসি জটিলতা, অতিরিক্ত শুল্ক ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে আমদানি খরচ বেড়েছে।

 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ বলেন, মসলার বাজার স্থিতিশীল। এ সময় দাম যা থাকার কথা, তার চেয়েও কম আছে।

 

এ ব্যাপারে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, কোরবানির ঈদের আগে মসলার বাজারে কিছুটা চাপ থাকে। এর সুযোগ নেন ব্যবসায়ীরা।