আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন, যে জবাব দিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Friday, May 1, 2026 54

অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সক্ষমতা থেকে বিরত রাখতে যে কোনো ব্যয়ই যুক্তিযুক্ত—এমন জবাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে তিনি এমন জবাব দেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, কংগ্রেসে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে পিট হেগসেথ প্রশ্নও ছুড়ে দেন।

পিট হেগসেথ  বলেন, ‘ইরান যেন পারমাণবিক বোমা না পায়, তা নিশ্চিত করতে আপনারা কত দিতে প্রস্তুত?’

 

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে সমালোচনার জবাবে হেগসেথ দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বলেন, এই সংঘাত কোনো অচলাবস্থা নয়।

বরং এটিকে ‘অচলাবস্থা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া শত্রুপক্ষের প্রচারণাকে উৎসাহিত করে।

এ সময় কংগ্রেসম্যান জন গারামেন্ডিকে হেগসেথ বলেন, আপনি এটিকে অচলাবস্থা বলছেন? এটি আমাদের শত্রুদের প্রচারণাকে শক্তিশালী করছে? এই বক্তব্যের জন্য লজ্জা পাওয়া উচিত।

 

যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের ‘বেপরোয়া এবং অদক্ষ ’ বলে কড়া সমালোচনা করেন তিনি।  

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

বর্তমানে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখলেও পরিস্থিতি এখনো অস্থির।
পেন্টাগন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে, যার মধ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরীও রয়েছে।

 

এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে।

তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। পাশাপাশি সারসহ কৃষিপণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়িয়ে তুলছে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

 

মূল্যবৃদ্ধির এই চাপ রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলছে।

আসন্ন নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ মূল্যস্ফীতি ভোটারদের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু।
এ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমেছে।

রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করছেন মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক, যা মার্চ ও এপ্রিলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

 

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের শীর্ষ আর্থিক কর্মকর্তা জুলস ‘জেই’ হার্স্ট।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের নিয়ে গঠিত আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে হার্স্ট এই তথ্য জানান।

 

তিনি বলেন, এই ব্যয়ের বড় একটি অংশ অস্ত্রশস্ত্রের পেছনে ব্যয় হয়েছে। তবে কিছু খরচ হয়েছে রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের জায়গায় নতুন সরঞ্জাম পাঠানোর কাজে।

যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট ব্যয় কত, তা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ধোঁয়াশা ছিল। কংগ্রেস যখন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব নিয়ে পর্যালোচনা করছে, তখন এটি ক্রমেই একটি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

 

হার্স্টের জবাবে কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ও হাউস প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথ বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে আপনি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। কারণ, আমরা অনেক দিন ধরে এই তথ্যটি চাইছিলাম, কিন্তু কেউ আমাদের সেই সংখ্যাটি জানায়নি।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর থেকে টানা ৩৯ দিন হামলা চালিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। অবশেষে ৮ এপ্রিল থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে এখনো নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে মার্কিন বাহিনী।

এই বিভাগের আরও খবর