আন্তর্জাতিক

বিক্ষোভের পর স্বস্তি, তুরস্কে মুক্তি পেলেন আটক ৫ শতাধিক আন্দোলনকারী

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Sunday, May 3, 2026 7

অনলাইন ডেস্ক : তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মে দিবসের বিক্ষোভ থেকে আটক ৫৭৬ জনকে মুক্তি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক অধিকার ও সমাবেশের স্বাধীনতার দাবিতে আয়োজিত এ বিক্ষোভে পুলিশের কড়া অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইনজীবীদের সংগঠন সিএইচডি শনিবার জানিয়েছে, শুক্রবার আটক হওয়া প্রায় সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে দিবস উপলক্ষে ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের চেষ্টা হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে শত শত মানুষকে আটক করা হয়। ইস্তাম্বুল গভর্নরের কার্যালয়ও নিশ্চিত করেছে, মোট ৫৭৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। তবে সিএইচডি জানিয়েছে, শনিবার সকাল নাগাদ আটক ৫৭৬ জনই মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মকর্তা বাসারান আকসুও রয়েছেন।

 

আটক ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দিতে সিএইচডির ইস্তাম্বুল শাখা শহরের বিভিন্ন এলাকায় আইনজীবী মোতায়েন করেছিল। সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সহায়তায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

মে দিবসের মূল উত্তেজনা ঘিরে ছিল ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক তাকসিম স্কয়ার। দীর্ঘদিন ধরেই এই চত্বরকে রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ২০১৩ সালের সরকারবিরোধী গেজি পার্ক আন্দোলনের পর থেকে সেখানে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তুরস্ক সরকার। এরপর থেকেই মে দিবস ঘিরে তাকসিম স্কয়ারে প্রবেশ নিয়ে প্রায় প্রতি বছরই সংঘাত ও উত্তেজনা দেখা যায়।

 

আটকের আগে শ্রমিক নেতা বাসারান আকসু তাকসিম স্কয়ার কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “তুরস্কের শ্রমিকদের জন্য একটি স্কয়ার বন্ধ করে রাখা যায় না।” তাঁর ভাষায়, সরকারি অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন উদযাপনের জন্য তাকসিম ব্যবহার করা হলেও শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি রাখা হচ্ছে।

 

এ বছরের মে দিবসের সমাবেশে “রুটি, শান্তি, স্বাধীনতা” স্লোগান সামনে আনে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন ও নাগরিক সমাজের সংগঠন। তারা শ্রমিক অধিকার, অর্থনৈতিক সংকট এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে সরকারকে সমালোচনা করে। তুরস্কে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিক অসন্তোষও বেড়েছে।

 

শুধু ১ মে নয়, এর আগেও অভিযানে নামে তুর্কি পুলিশ। সিএইচডির তথ্য অনুযায়ী, ২৮ এপ্রিল মে দিবসের প্রস্তুতি ঘিরে আরও ৪৭ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং নয়জনকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

 

মে দিবসকে ঘিরে তুরস্কে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই ইস্তাম্বুলের কেন্দ্রীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং বহু রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তবে তুরস্ক সরকার নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে এসব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আসছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, তাকসিম স্কয়ারকে কেন্দ্র করে টানাপোড়েন শুধু শ্রমিক আন্দোলনের প্রশ্ন নয়, বরং তুরস্কে নাগরিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রকাশের পরিসর নিয়েও বড় বিতর্কের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এবারের মে দিবসের ঘটনাও সেই বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। 

 

তথ্যসূত্র : এএফপি

এই বিভাগের আরও খবর