আন্তর্জাতিক

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব বহাল, ট্রাম্পের আদেশ বাতিল সুপ্রিম কোর্টে

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Wednesday, July 1, 2026 36

অনলাইন ডেস্ক : অভিবাসীদের সন্তানদের জন্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই এ সম্পর্কিত নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন ট্রাম্প।

 

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন বিচারপতির মধ্যে ৬ জন ট্রাম্পের আদেশের বিপক্ষে এবং ৩ জন পক্ষে ভোট দেন। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং বিচারক সোনিয়া সোতোমেওর, এলিনা কাগান, অ্যামি কোনি ব্যারেট ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন একমত হন যে ট্রাম্পের আদেশ সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর পরিপন্থী।

 

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে উল্লেখ করেছেন, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী দেশটির মাটিতে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো শিশুর জন্মসূত্রে নাগরিক হওয়ার অধিকার রয়েছে। এমনকি যেসব বাবা-মা অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের সন্তানরাও মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী ‘জন্মসূত্রে নাগরিক। নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এটি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

 

বিচারপতি রবার্টস লিখেছেন, ‘নাগরিকত্ব তখন এবং এখনও অধিকারের অংশ- অর্থাৎ আমাদের রাজনৈতিক সম্প্রদায়ে অবাধে অংশগ্রহণের অধিকার। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এর মাধ্যমে ‘এ দেশে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তির’ জন্য সুযোগ প্রসারিত করেছিলেন। আমরা আজ সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি।’

অন্যদিকে কট্টর রক্ষণশীল তিন বিচারক—ক্ল্যারেন্স টমাস, স্যামুয়েল আলিটো এবং নিল গোরসুচ ট্রাম্পের আদেশের পক্ষে সায় দিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন।

 

প্রসঙ্গত, প্রায় ১৫০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া শিশুরা ‘জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব’ পেয়ে আসছেন। তবে ট্রাম্প বরাবরই এই সাংবিধানিক অধিকারকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, সংবিধানে উল্লিখিত ‘যুক্তরাষ্ট্রের এক্তিয়ারভুক্ত’ শব্দগুচ্ছের অর্থ হলো—পিতা-মাতার অন্তত একজনকে মার্কিন নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হতে হবে। ফলে অবৈধভাবে বা শিক্ষা-পর্যটনসহ সাময়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দিলে শিশু মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না। তবে বাবা-মায়ের কেউ আমেরিকান নাগরিক হলে সন্তান জন্মের পরই মার্কিন নাগরিক বলে স্বীকৃতি পাবে।

 

এদিকে এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির জন্য একে বড় আইনি বাধা ও বড় ধরনের পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আদেশটি বহাল থাকলে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিশু নাগরিকত্ববঞ্চিত হতো। এর ফলে ২০৪৫ সালের মধ্যে দেশে নথিপত্রহীন মানুষের সংখ্যা আরও ২৭ লাখ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা ছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই শঙ্কা কেটে গেল।

 

সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি

এই বিভাগের আরও খবর