ঢাবির কুয়েত মৈত্রী হলের শতাধিক ছাত্রী অসুস্থ
অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Saturday, May 9, 2026 10
অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কুয়েত মৈত্রী হলে দূষিত পানি পান করে গত তিন দিনে শতাধিক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এসব শিক্ষার্থ ডায়রিয়া, বমি ও পেটব্যথাজনিত এসব অসুস্থতা জনিত রোগে ভুগছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেডিকেল ক্যাম্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোহাম্মদ ড. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার-এর প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা তানভীর আলী জানান, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে আসেন। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, তিন দিনে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছেন। বমি ও ডায়রিয়াজনিত সমস্যাগুলো সাধারণত পানি ও খাবারের কারণে হয়ে থাকে। ইতোমধ্যে হলে দুইজন চিকিৎসক কাজ করছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের পানির ট্যাংক পরিষ্কারের পর পানিতে ব্লিচিংয়ের তীব্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, যা ব্যবহার করতে গিয়ে অনেকেই বমিভাব অনুভব করছেন।কুয়েত মৈত্রী হলের জুয়েনা আলম মুন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মুখ ধোয়া বা কুলি করতে গেলেই ব্লিচিংয়ের গন্ধে বমি আসে। গোসলের পানিতেও একই সমস্যা। ওয়াশরুম পরিষ্কারের পর যথাযথভাবে পানি দিয়ে পরিষ্কার না করায় ব্লিচিংয়ের প্রভাব থেকেই যাচ্ছে।
আরেক শিক্ষার্থী সাজরিন আমিন বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থতার ঘটনা বাড়ছে। ক্যান্টিনের খাবার ও পানি, দুটোই দায়ী হতে পারে। তবে যারা ক্যান্টিনে খায় না, তারাও অসুস্থ হচ্ছে- এতে মনে হচ্ছে পানিই মূল কারণ।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দাবি করেছেন, হলের প্রায় ৮০ শতাংশ আবাসিক ছাত্রী কোনো না কোনোভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং পরিস্থিতি ‘মহামারীর’ মতো আকার নিয়েছে।তাদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে সুপেয় পানির সংকট থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি পানির নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্ব এবং তা গোপন রাখার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ।
প্রাধ্যক্ষের দাবি, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। পাশাপাশি প্রতিদিন মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার মাধ্যমে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত পানির পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
