লাইফ স্টাইল

দীর্ঘদিনের কোমর ব্যথার আধুনিক চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Sunday, May 10, 2026 9

অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘদিনের কোমর ব্যথা বর্তমানে সাধারণ হলেও এটি একটি স্বাস্থ্যগত জটিল সমস্যা। এতে কর্মক্ষমতা হ্রাস ও দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তি আনতে পারে। অনেকেই দীর্ঘদিন ব্যথা সহ্য করে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। ফলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাই অবহেলা করবেন না। দীর্ঘদিনের কোমর ব্যথা বা Chronic Low Back Pain বলতে কোমরের নিচের অংশে তিন মাস বা তারও বেশি সময় ধরে স্থায়ী বা বারবার ফিরে আসা ব্যথাকে বোঝায়। কখনও ব্যথা শুধু কোমরে সীমাবদ্ধ থাকে, আবার কখনও তা নিতম্ব বা পায়ের দিকে ছড়িয়ে যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ঝিনঝিন ভাব, অবশ অনুভূতি কিংবা পায়ে দুর্বলতাও দেখা দেয়।

 

এ ব্যথার সাধারণ কারণ মেকানিক্যাল বা যান্ত্রিক সমস্যা। দীর্ঘসময় একভাবে বসে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে কাজ করা, ভারী জিনিস তোলা কিংবা হঠাৎ মাংসপেশীতে টান লাগার কারণে এ ব্যথা হতে পারে। এছাড়া লিগামেন্ট ইনজুরি বা কোমরের পেশির অতিরিক্ত চাপ থেকেও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা দেখা দেয়। ডিস্কজনিত সমস্যাও ব্যথার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানে থাকা ডিস্ক সরে গেলে বা ক্ষয় হয়ে গেলে ডিস্ক প্রলাপ্স বা ডিস্ক হার্নিয়েশন হয়। তখন স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে এবং কোমর থেকে পায়ে ব্যথা ছড়িয়ে যেতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেরুদণ্ডে ক্ষয়জনিত পরিবর্তন যেমন স্পন্ডাইলোসিস বা ফ্যাসেট জয়েন্ট আর্থ্রাইটিসও দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথার কারণ হতে পারে।

 

কিছু ক্ষেত্রে অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস এ ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। আবার তুলনামূলক কম হলেও টিউমার, সংক্রমণ (বিশেষ করে টিবি স্পাইন), হাড়ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের মতো গুরুতর কারণও থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের ব্যথা অবহেলা করা উচিত নয়।

 

রোগ নির্ণয়ে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস জানা জরুরি। ব্যথা কতদিন ধরে হচ্ছে, রাতে বাড়ে কি না, পায়ে ছড়িয়ে যায় কি না, জ্বর বা ওজন কমে যাচ্ছে কি না- এসব বিষয় চিকিৎসক গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেন। এরপর শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেরুদণ্ডের নড়াচড়া, স্নায়ুর কার্যকারিতা এবং স্ট্রেইট লেগ রেইজিং টেস্ট করা হয়।

 

সব রোগীর ক্ষেত্রে সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মধ্যে এমআরআই অনেক ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি ডিস্ক, স্নায়ু ও নরম টিস্যুর অবস্থা বিস্তারিতভাবে দেখাতে সক্ষম। দীর্ঘদিনের কোমর ব্যথার আধুনিক চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- জীবনযাত্রার পরিবর্তন বা লাইফস্টাইল মডিফিকেশন।

 

সঠিক ভঙ্গিতে বসা ও দাঁড়ানো, দীর্ঘসময় একভাবে বসে না থাকা, নিয়মিত হাঁটা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় শুধু জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলেই ব্যথা অনেকাংশে কমে যায়। ওষুধের মাধ্যমে ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যথানাশক, মাসল রিলাক্সেন্ট এবং স্নায়ুর ব্যথা কমানোর ওষুধ দেওয়া হয়।

 

তবে দীর্ঘদিন নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ সেবন করা ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এতে কিডনি, লিভার বা পাকস্থলীর ক্ষতি হতে পারে। ফিজিওথেরাপি দীর্ঘমেয়াদে কোমর ব্যথার সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসাগুলোর একটি। স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ, কোর মাসল স্ট্রেন্থেনিং, মেকেনজি এক্সারসাইজ এবং সঠিক ভঙ্গি সংশোধনের মাধ্যমে রোগী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ফিজিওথেরাপি করলে অনেক ক্ষেত্রেই অপারেশনের প্রয়োজন হয় না।

লেখক : অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ