বাংলাদেশ

শিক্ষার্থী ভিসায় পড়াশোনার পরিবর্তে অনেকে শ্রমবাজারে যুক্ত হয়ে যায়

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Wednesday, May 20, 2026 7

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জার্মান ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার প্রশ্নে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলে‌ছেন, বর্তমানে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনকারীদের একটি বড় অপেক্ষমাণ তালিকা রয়েছে। প্রায় ৬০ হাজার আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অনেক শিক্ষার্থী একাধিকবার আবেদন করছেন।

তি‌নি ব‌লেন, প্রতিটি আবেদন ও নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করতে হয়, কারণ অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া বা ভুল তথ্য ও নথি জমা দেওয়ার ঘটনাও দেখা যায়। ফলে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের প্রয়োজন হয়, যা সময়সাপেক্ষ।

 

বুধবার (২০ মে) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জার্মান রাষ্ট্রদূত।

রুডিগার লোটজ বলেন, কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে অনেকেই পড়াশোনার পরিবর্তে শ্রমবাজারে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমাদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়। তবে অপেক্ষমাণ আবেদন কমে এলে ভবিষ্যতে ভিসা প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর হবে বলে আমরা আশাবাদী। আমরা চাই আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জার্মানিতে এসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করুক।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। জার্মানি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি গন্তব্য এবং ইউরোপে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। তৈরি পোশাক খাতের বাইরে প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

 

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বিশ্বে প্রবেশ করছি, যেখানে বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও জার্মানি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সংলাপভিত্তিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন সহযোগিতা ভবিষ্যতে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শ্রম অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং সুশাসনের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে জার্মানি বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

 

বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রুডিগার লোটজ বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির সম্পর্ক আরও উন্নত হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, জলবায়ু সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জার্মানি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, শিল্প বৈচিত্র্যকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

 

বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির সম্পর্ক আরও উন্নত হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, জলবায়ু সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জার্মানি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, শিল্প বৈচিত্র্যকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ফ্রিডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ সিরিজের দ্বিতীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ-এর প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা ক‌রেন।

 

অনুষ্ঠানে ফ্রিডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফেলিক্স গ্রেডেস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী এবং ফ্রিডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার সাধন কুমার দাস প্রমুখ বক্তব‌্য দেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বাণিজ্য, উচ্চশিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সুশাসন ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর