ই-পেপার

অলিসের দুর্দান্ত গোলেও ইতালির সঙ্গে ফ্রান্সের ড্র

মাইকেল অলিসে আবারও দুর্দান্ত একটি গোল

আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮
১০ ভিউ
অলিসের দুর্দান্ত গোলেও ইতালির সঙ্গে ফ্রান্সের ড্র

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

স্পোর্টস ডেস্ক : মাইকেল অলিসে আবারও দুর্দান্ত একটি গোল করলেন। তবে শুক্রবার নেশন্স লিগে ইতালির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ফ্রান্স। ঘরের মাঠে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে এটাই ছিল জিনেদিন জিদানের প্রথম ম্যাচ।

চার দিন আগে বেলজিয়ামের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে একক প্রচেষ্টায় দারুণ গোল করে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে জিতিয়েছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা অলিসে। এবারও নিজের অসাধারণ প্রতিভার ঝলক দেখালেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া বলে ক্রসবারে লেগে জালে জড়ানো দুর্দান্ত শটে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন অলিসে।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ইতালিকে সমতায় ফেরান ইন্টার মিলানের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। ফলে দেশের দায়িত্ব নিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয়ের স্বাদ পাওয়া হলো না জিদানের।

শেষ দিকে ফ্রান্সের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় দায়োত উপামেকানো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। সাত পয়েন্ট নিয়ে উয়েফা নেশন্স লিগের ‘এ১’ গ্রুপের শীর্ষে আছে ফ্রান্স। ছয় পয়েন্ট নিয়ে তাদের ঠিক পেছনে বেলজিয়াম, তুরস্ককে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা।

দুই সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতিতে নিজেদের শেষ ম্যাচে সোমবার মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও বেলজিয়াম। আর চার পয়েন্ট নিয়ে পরের ম্যাচে তুরস্ককে আতিথ্য দেবে ইতালি।

প্যারিসের অদূরে স্তাদ দ্য ফ্রান্সে ৭৭ হাজার ১১৮ দর্শকের উপস্থিতিতে জিদানকে ঘিরেই ছিল মূল আকর্ষণ। ঘরের মাঠে কোচ হিসেবে তার অভিষেক ম্যাচের প্রতিপক্ষও ছিল সেই ইতালি, যারা খেলোয়াড় হিসেবে জিদানের শেষ ম্যাচেও প্রতিপক্ষ ছিল।

বর্তমানে ৫৪ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ও সাবেক ব্যালন দ'অরজয়ী আর কখনো খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেননি ২০০৬ সালের বার্লিন বিশ্বকাপের ফাইনালে মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে আঘাত করে লাল কার্ড দেখার পর। পেনাল্টি শুটআউটে সেই ম্যাচ জিতেছিল ইতালি।

ফ্রান্সের জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলোয়াড় হিসেবে জিদানের এটিই ছিল শেষ ম্যাচের পর প্রথম উপস্থিতি। ২০০৬ সালের মে মাসে মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে শেষবার এই মাঠে খেলেছিলেন তিনি। ওই ম্যাচেই ফ্রান্সের হয়ে শততম ম্যাচ পূর্ণ করেছিলেন জিদান।

অতীতের স্মৃতিকে পেছনে রেখে নেশন্স লিগে ফ্রান্স দলকে নিজের ছন্দে গড়ে তুলতে চাইছেন জিদান। একই সঙ্গে তার চোখ এখন ২০২৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের দিকেও।

এই ম্যাচেও অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পাননি জিদান। গত সপ্তাহে তুরস্কের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করার সময় হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড ক্লাবে ফিরে গেছেন।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের একাদশে ছয়টি পরিবর্তনের মধ্যে অলিসে আবারও শুরু থেকেই খেলেন। নতুন মুখ জেরেমি জাকে ও লিভারপুলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় এবং কোমোর মিডফিল্ডার লুকাস দা কুনাও আবারও একাদশে ছিলেন।

রবার্তো মানচিনির অধীনে নতুন করে দল গড়ছে ইতালি। তিনবারের বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত এই দলটির কোচ হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নিয়েছেন মানচিনি।

ড্রয়ের পর দুই দলের মধ্যে ইতালিই তুলনামূলক স্বস্তিতে থাকবে। দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখার জন্য অবশ্য গোলরক্ষক ও অধিনায়ক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে ধন্যবাদ দিতেই হবে।

দারুণ একটি আক্রমণ থেকে ম্যাচের শুরুতেই ইতালিকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন ময়েসে কিন। কিন্তু তার দুর্বল শট আটকে দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইগনান।

প্রথমার্ধে দাভিদে ফ্রাত্তেসিও কাছাকাছি গিয়েছিলেন। কিন একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। অন্যদিকে অলিসের একটি ক্রস ক্রসবারে আঘাত করাই ছিল প্রথমার্ধে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় সুযোগ

বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়ায় স্বাগতিকরা। দোনারুম্মা দেজিরে দুএ, উসমান দেম্বেলে ও অলিসের শট রুখে দেন। তবে ৫৫ মিনিটে আর পারেননি তিনি। রায়ান শেরকি ফ্রি-কিক থেকে বল পেছনে বাড়িয়ে দিলে শক্তিশালী শটে ক্রসবারে লাগিয়ে বল জালে পাঠান অলিসে।

তবে কিছুক্ষণ পরই ফ্রান্সের বক্সের ঠিক বাইরে দা কুনার পা থেকে বল কেড়ে নেন বাস্তোনি। এরপর সহজেই গোল করে ইতালিকে সমতায় ফেরান তিনি।

সাবেক প্যারিস সাঁ জার্মাঁর গোলরক্ষক দোনারুম্মা এরপর আরও কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করেন। আদ্রিয়েন রাবিওর শট ঠেকানোর পাশাপাশি এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার দুটি প্রচেষ্টাও রুখে দেন তিনি।

ম্যাচের ৮৫ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখায় উপামেকানোকে মাঠ ছাড়তে হয়। ফলে শেষ কয়েক মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ফ্রান্সকে।