ই-পেপার

থাইল্যান্ডে দাদা-দাদিকে হত্যার পর স্কুলে বন্দুকহামলা কিশোরের, নিহত ৮

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে এক ভয়াবহ

আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৯
১৪ ভিউ
থাইল্যান্ডে দাদা-দাদিকে হত্যার পর স্কুলে বন্দুকহামলা কিশোরের, নিহত ৮

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর প্রথমে নিজ বাড়িতে তার দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। পরবর্তীতে নিজের স্কুলে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ আরও ৫ জনকে হত্যা এবং শেষে নিজেও আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৮ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে থাই পুলিশ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ননথাবুরি প্রদেশের বাং কুরাই জেলার স্বনামধন্য ‘দেবসিরিন ননথাবুরি’ স্কুলে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম চলাকালীন এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।

থাইল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জরুরি সেবা সংস্থার তথ্যমতে, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে স্কুলের শারীরিক শিক্ষার (পিই) পোশাক পরা ওই ছাত্র স্কুলভবনের ৩য় তলার একটি ফাঁকা কক্ষ থেকে হঠাৎ করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। গুলির শব্দ শোনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে শ্রেণীকক্ষ থেকে প্রাণভয়ে হুড়োহুড়ি করে স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে আসে।

প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ১৪ বছর বয়সী হামলাকারী ওই স্কুলেরই নবম গ্রেডের এক ছাত্র। সে স্কুলে এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর পর নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

তিনি আরও জানান, হামলায় ঘটনাস্থলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ৫ জনের নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামলাকারী ছাত্র নিজেও মারা যাওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ জনে। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ হয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে ২৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ১৪ বছর বয়সী হামলাকারী অন্তত ২৬টি গুলি চালিয়েছিল এবং তার কাছ থেকে একটি হ্যান্ডগান এবং আরও ৩৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। হ্যান্ডগানটি তার ছিল তার দাদার।

তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারী ওই কিশোর তার দাদা-দাদীর সাথেই থাকত। বাড়িতে কোনো অজ্ঞাত কারণে সে তার নিজের দাদা ও দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। তবে সে কী কারণে এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এটি অত্যন্ত ভয়াবহ একটি ঘটনা, এমনটি ঘটা মোটেও উচিত হয়নি’।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার হার সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ১ কোটি বৈধ-অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, অর্থাৎ প্রতি ৭ জন নাগরিকের বিপরীতে ১টি করে বন্দুক রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা