অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ শনিবার থেকে এক আংশিক অচলাবস্থার (শাটডাউন) মুখে পড়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যদের মধ্যে অভিবাসন নীতি সংস্কার নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী মতপার্থক্যের জেরে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতের সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় বাজেট পাসের ক্ষেত্রে আইনপ্রণেতারা ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হলো।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)-এর কার্যক্রমের ওপর নতুন কড়াকড়ি আরোপ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। ডেমোক্র্যাটরা দাবি করছেন যে, ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের সাধারণ পুলিশের মতো নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আদালতের পরোয়ানা বাধ্যতামূলক করতে হবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে একে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের এই অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসন কর্মকর্তাদের ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে সব ধরণের সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর।
এই শাটডাউনের ফলে মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু ‘অ-অপরিহার্য’ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক কর্মীকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে সীমান্ত সুরক্ষা এবং জরুরি অভিবাসন কার্যক্রমের জন্য বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু অপারেশন অব্যাহত থাকবে। কোস্ট গার্ড, টিএসএ এবং সিক্রেট সার্ভিসের মতো সংস্থাসমূহ এই অর্থ সংকটের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অচলাবস্থা কতদিন স্থায়ী হবে তা নির্ভর করছে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতির ওপর। বর্তমানে কংগ্রেস ১০ দিনের বিরতিতে থাকায় এই সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।
