ই-পেপার

গার্নসির ঐতিহাসিক প্রাসাদের দাম ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড

যুক্তরাজ্যের চ্যানেল আইল্যান্ডসের গার্নসিতে প্রায় ৮০ একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে

আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২০:৩৫
৮ ভিউ
গার্নসির ঐতিহাসিক প্রাসাদের দাম ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের চ্যানেল আইল্যান্ডসের গার্নসিতে প্রায় ৮০ একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো হ্যাভিল্যান্ড হল বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয়েছে। ঐতিহাসিক এই ব্যক্তিগত এস্টেটটির দাম হাঁকা হয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। একসময় এটি লেফটেন্যান্ট-গভর্নরদের সরকারি বাসভবন ছিল। সম্পত্তিটির সাবেক মালিকদের মধ্যে রয়েছেন বিখ্যাত মার্মালেড ব্যবসায়ী উইলিয়াম কিলার। এর আদি মালিকের বংশধরদের মধ্যে ছিলেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী অলিভিয়া ডি হ্যাভিল্যান্ড ও জোয়ান ফন্টেইন।

গার্নসির বৃহত্তম ব্যক্তিগত এস্টেট হিসেবে পরিচিত হ্যাভিল্যান্ড হলে রয়েছে ছয়টি শয়নকক্ষ, সাতটি স্নানঘর, পাঁচটি অভ্যর্থনা কক্ষ ও একটি ইনডোর সুইমিং পুল। মূল বাড়ির বাইরে রয়েছে অতিথিদের জন্য পাঁচটি কটেজ, কর্মীদের আবাসন, অফিস, খামারের পুরোনো ভবন সংস্কার করে তৈরি স্থাপনা, ওয়াইন সেলার ও গেমস রুম।

১৮২৯ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে লেফটেন্যান্ট-কর্নেল থমাস ফিওট ডি হ্যাভিল্যান্ড অট্টালিকাটি নির্মাণ করেন। নির্মাণের পর একপর্যায়ে এটি গার্নসির লেফটেন্যান্ট-গভর্নরদের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

হ্যাভিল্যান্ড হলের মালিকানার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নাম উইলিয়াম কিলার। তাঁর পরিবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ‘ডান্ডি মার্মালেড’ ব্র্যান্ড তৈরি করেছিল। ১৯২২ সালে এস্টেটটি কিনে নেন কাউন্ট লোথার ব্লুচার ফন ভালস্ট্যাট। তাঁর পরিবারের পূর্বপুরুষ ছিলেন প্রুশীয় সেনাপতি। ওয়াটারলুর যুদ্ধে ওই সেনাপতির বাহিনী নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে ডিউক অব ওয়েলিংটনের বিজয়ে সহায়তা করেছিল।

এস্টেটটির সঙ্গে হ্যাভিল্যান্ড পরিবারেরও দীর্ঘ ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। এই পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মে ছিলেন বিমান চলাচলের অগ্রপথিক স্যার জিওফ্রে ডি হ্যাভিল্যান্ড। এ পরিবারের উত্তরসূরিদের মধ্যে আরও রয়েছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী অলিভিয়া ডি হ্যাভিল্যান্ড ও জোয়ান ফন্টেইন।

বিক্রির দায়িত্বে থাকা রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান স্যাভিলসের কান্ট্রি ডিপার্টমেন্টের প্রধান ফিলিপা ডালবি-ওয়েলশ সম্পত্তিটিকে চ্যানেল আইল্যান্ডসের অন্যতম উল্লেখযোগ্য এস্টেট হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ঐতিহাসিক রিজেন্সি ভিলাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সম্পত্তিতে রয়েছে মনোরম বাগান, অতিথিদের আবাসন, বিনোদনের নানা আয়োজন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামো। চ্যানেল আইল্যান্ডসে এ ধরনের বড় সম্পত্তি বিরল। তাই বিশ্বজুড়ে সম্ভাব্য ক্রেতাদের আগ্রহ তৈরি হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি

স্যাভিলসের গার্নসি ওপেন মার্কেট রেসিডেন্সিয়াল ব্যবসার প্রধান নিক পালুচের মতে, হ্যাভিল্যান্ড হল অসাধারণ একটি বাড়ি। তাঁর ভাষায়, এমন সম্পত্তি কেনার সুযোগ জীবনে একবারই আসে।

সূত্র: বিবিসি