ই-পেপার

ঝড়ে গাজায় ডুবল ৭০ হাজার বাস্তুচ্যুতের তাঁবু

গাজা উপত্যকায় প্রথম শীতকালীন ঝড় ও টানা ভারী বৃষ্টিতে মাত্র ১২ ঘণ্টায়

আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২০:৪২
১৪ ভিউ
ঝড়ে গাজায় ডুবল ৭০ হাজার বাস্তুচ্যুতের তাঁবু

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : গাজা উপত্যকায় প্রথম শীতকালীন ঝড় ও টানা ভারী বৃষ্টিতে মাত্র ১২ ঘণ্টায় পানিতে তলিয়ে গেছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের অন্তত ৭০ হাজার অস্থায়ী তাঁবু। এতে উপত্যকাজুড়ে মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে জরুরি উদ্ধারের জন্য ১ হাজার ৫০০টির বেশি আকুতি পেয়েছে গাজার সরকারি সংবাদমাধ্যম কার্যালয় ও নাগরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী।

গাজার সরকারি সংবাদমাধ্যম কার্যালয়ের তথ্যমতে, ঝড়ের প্রথম ১২ ঘণ্টাতেই প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। ইসরায়েলি বিমান হামলায় আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত বহু ভবন নতুন করে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ভোরের পর থেকে আশ্রয়শিবিরগুলোর বড় অংশ পানিতে ডুবে যায়। এতে নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সীমান্ত অবরুদ্ধ রেখে ত্রাণ ও আশ্রয়সামগ্রী প্রবেশে বাধা দেওয়ায় এই পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলি দখলদারিত্ব দায়ী। গাজাবাসীর জীবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ ও অন্যান্য বিশ্ব সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম ও পানিনিষ্কাশন পাম্পের অভাবে এককভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের জীবন বাঁচাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে জরুরি ভিত্তিতে যানবাহন, জ্বালানি ও ত্রাণসামগ্রী চাওয়া হয়েছে।

ঝড় আঘাত হানার আগেই গাজায় প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার তাঁবু বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বর্তমানে অন্তত ৩ লাখ পরিবারের জন্য নিরাপদ আশ্রয় প্রয়োজন। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, উপত্যকার মোট জনসংখ্যার ৯৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষ জরুরি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। সংস্থাটি ১১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে শীতকালীন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ১৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে চারটি ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।

এর আগেও আসন্ন শীত নিয়ে বারবার সতর্ক করেছিল গাজা কর্তৃপক্ষ। গত আগস্টে তারা জানিয়েছিল, প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার পরিবার বসবাসের অনুপযোগী তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে শীতের সম্ভাব্য ভয়াবহতা নিয়েও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এর আগে গত শীতে আশ্রয়শিবিরে ঠান্ডাজনিত কারণে ২১ শিশুসহ ২৪ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছিল। নতুন করে ঝড় ও বৃষ্টির আঘাতে গাজার মানবিক সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আল মায়াদিন