ইরানের রাস্তায় অস্ত্রের ঝনঝনানি, সাধারণ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে রাইফেল প্রশিক্ষণ
অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Monday, May 18, 2026 6
অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে দেওয়া যুদ্ধ হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন এই হুমকির জবাবে ঘরের ভেতরে ও বাইরে যুদ্ধের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান। তেহরানের রাজপথ থেকে শুরু করে খোদ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলেও এখন অস্ত্রের প্রকাশ্য প্রদর্শন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
সিএনএন-এর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স চিফ করেসপন্ডেন্ট ম্যাথিউ চান্স তেহরান থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানান, ইরানের রাজধানী তেহরানে অন্ধকার নামার সাথে সাথেই আলবোর্জ পর্বতমালার বরফাবৃত চূড়াগুলো যখন অন্ধকারে মিলিয়ে যায়, তখন হাজার হাজার ইরানি নাগরিক সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত নৈশ সমাবেশে যোগ দিতে রাস্তায় নেমে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জনমত ও সমর্থন গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত প্রায় তিন মাস ধরে প্রতিদিন রাতে এই সমাবেশগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই উত্তেজনায় যোগ হয়েছে নতুন এক মাত্রা। তেহরানের প্রধান প্রধান মোড়গুলোতে স্থাপন করা হয়েছে সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত 'অস্ত্র বুথ' বা গান কিওস্ক (Gun Kiosks)। এসব বুথে সাধারণ নাগরিকদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একে-৪৭ (AK-47) বা অ্যাসল্ট রাইফেলের মতো মারাত্মক অস্ত্র চালানো এবং তা খোলার ও জোড়া লাগানোর প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। সিএনএন-এর প্রতিনিধি তেহরানের ভানাক স্কয়ারের এমনই একটি বুথে কালো চাদর পরা এক নারীকে মাস্ক পরিহিত এক সামরিক প্রশিক্ষকের কাছ থেকে মনোযোগ দিয়ে একে-৪৭ রাইফেল চালানো শিখতে দেখেন।
বিশ্বের কাছে নিজেদের এই সামরিক প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দিতে খোদ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকেও মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান সরকার। সম্প্রতি দেশটির 'চ্যানেল-৩' এর জনপ্রিয় নারী উপস্থাপিকা মোবিনা নাসিরি টেলিভিশনের পর্দায় দুই হাতে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল নিয়ে লাইভ শো-তে হাজির হন। দর্শকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "ভানাক স্কয়ার থেকে তারা আমার কাছে এই অস্ত্রটি পাঠিয়েছে, যাতে আপনাদের সবার মতো আমিও এটি ব্যবহার করা শিখতে পারি।"
তবে এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের মধ্যেও ইরানের সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ যে যুদ্ধ চায় না, সেই চিত্রও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। ভানাক বা তাজরিশ স্কয়ারের সমাবেশগুলোর ঠিক অপর পাশে, সিনেমা মিউজিয়ামের কাছের একটি শান্ত পার্কে তরুণ-তরুণীদের শান্তিতে চা খেতে এবং বইয়ের স্টল ঘুরে দেখতে দেখা গেছে। যুদ্ধের দামামার বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে এক ইরানি যুবক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমরা কোনো যুদ্ধ চাই না।"
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমাগত সামরিক চাপ এবং অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ জনমতকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার এই প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
