আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জনের ঘোষণা জোহরান মামদানির

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Tuesday, May 26, 2026 9

অনলাইন ডেস্ক : নিউইয়র্ক সিটির ঐতিহাসিক ‘ইসরায়েল ডে প্যারেডে’ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডেমোক্রেটিক-সোশ্যালিস্ট নেতা জোহরান মামদানি। এ কারণে বিভিন্ন ইহুদি সংগঠনের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। নিউইয়র্কে রেকর্ড মাত্রায় ইহুদিবিদ্বেষ বা অ্যান্টিসেমিটিজম বৃদ্ধির উদ্বেগের মধ্যেই তিনি এই বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলেন।

 

ইসরায়েলের বাইরে বিশ্বের বৃহত্তম ইহুদি জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক সিটি। সেখানে প্রতি বছর আয়োজিত এই বার্ষিক প্যারেডকে দীর্ঘদিন ধরে ইহুদি রাষ্ট্র এবং স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মামদানির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সম্প্রতি শহরের দুটি প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠন গ্রেসি ম্যানশনে আয়োজিত একটি ইহুদি ঐতিহ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক এডামস প্রশাসনের ইহুদিবিদ্বেষ-বিরোধী দফতরের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মোশে ডেভিস ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, ১৯৬৪ সালে এই ইসরায়েল প্যারেড শুরু হওয়ার পর থেকে নিউইয়র্ক সিটির প্রত্যেক মেয়র এতে অংশ নিয়েছেন। ইসরায়েলের সঙ্গে নিউইয়র্কের যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তা নিয়ে এই শহর সবসময় গর্ব বোধ করে। ফলে এই প্যারেডে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিউইয়র্ক সিটির দীর্ঘ ইতিহাসের প্রতি এক ধরনের অবমাননা।

 

চলতি মাসের শুরুর দিকে জোহরান মামদানি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন যে, তিনি আগামী ৩১ মে অনুষ্ঠিতব্য এই সংহতি সমাবেশে অংশ নেবেন না। এমন এক সময়ে তিনি এই ঘোষণা দিলেন যখন শহরের বিভিন্ন সিনাগগ ও ইহুদি কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের বাইরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অনবরত ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ চলছে এবং ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে নানা মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

অবশ্য রাজনৈতিক নীতির কারণে তিনি যে এই প্যারেডে অংশ নেবেন না, তার একটি ইঙ্গিত এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘জিউইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও দিয়েছিলেন মামদানি। তবে সম্প্রতি বিষয়টি তিনি পুনরায় প্রকাশ্যে নিশ্চিত করার পর স্থানীয় ইহুদি ও রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। এই সমালোচনার বিষয়ে ফক্স নিউজ ডিজিটাল মামদানির কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মুখপাত্র জিউইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সিকে দেওয়া আগের সেই বিবৃতির দিকেই ইঙ্গিত করেন।

 

এদিকে প্যারেড বর্জনের এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই আয়োজক কমিটি দাবি করেছে, মামদানির এই সিদ্ধান্তের পর উল্টো সাধারণ মানুষের মাঝে সংহতির আগ্রহ আরও বেড়েছে। এর ফলে এবারের বার্ষিক অনুষ্ঠানে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

এই বিভাগের আরও খবর