কানাডা

কটাক্ষের তীর্যক তীর পেরিয়ে ট্রুডো গাইলেন প্রেমের জয়গান

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Wednesday, June 17, 2026 6

অনলাইন ডেস্ক : প্রেম কখনো কখনো মানুষকে অন্ধ করে দেয়, বোধ-বুদ্ধি ভুলিয়ে দেয়, ফেলে দেয় দারুণ বিপাকে। তেমনি এক জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে একই সময়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের দুটি ম্যাচ ছিল। টরন্টোতে বসনিয়া হার্জেগোভিনার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল স্বাগতিক কানাডা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র মাঠে নেমেছিল প্যারোগুয়ের বিপক্ষে। সাধারণ বিবেচনায় ট্রুডোর টরন্টোতেই থাকার কথা, থাকা উচিত।

 

কিন্তু বাগড়া দিয়েছে প্রেম। যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ের ম্যাচের আগে যে স্টেডিয়ামে গাইবেন ট্রুডোর প্রেয়সী পপ সুপারস্টার কেটি পেরি। কানাডা না পেরি, দেশ না প্রেম—এই দ্বন্দ্বে পড়েন বিশ্বের বহু তরুণীর ক্রাশ জাস্টিন ট্রুডো। শেষ পর্যন্ত প্রেমেরই জয় হয়েছে।

কানাডার ম্যাচ ফেলে প্রেমিকার গান শুনতে লস অ্যাঞ্জেলেসে ছুটে যান ট্রুডো। প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনই যখন সেলিব্রেটি; তখন প্রেমটা যে গোপনে করবেন, সে উপায়ও থাকে না। ক্যামেরা বারবার খুঁজে নিয়েছে এই তারকা জুটিকে। 
কেটি পেরি মঞ্চ থেকে ছুটে এসে ট্রুডোকে চুমু খাচ্ছেন, সে দৃশ্য দেখেছেন বিশ্বের কোটি মানুষ। ম্যাচজুড়ে টেলিভিশনের বিভিন্ন ক্লিপে এ জুটিকে গ্যালারিতে বসে বিয়ার পান করতে ও ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।

 

প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সঙ্গে, এই দৃশ্য সবারই ভালো লাগার কথা। কিন্তু কানাডিয়ানদের কাছে এটা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

ট্রুডো-পেরির প্রেমের দৃশ্য ভাইরাল হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। অনলাইনে অনেক কানাডিয়ান নাগরিক বিরক্তি ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক কানাডিয়ান একে ‘দেশের মুখে চপেটাঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে ‘এটি কতটা কুরুচিপূর্ণ তা বলে বোঝানো যাবে না।’ অনেকে ট্রুডোকে ‘প্রতারক’ হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন।

 

তীব্র সমালোচনায় জর্জরিত জাস্টিন টুডো অবেশেষ মুখ খুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে কানাডার পতাকার ইমোজি যুক্ত করে তিনি লেখেন, ‘মাঝে মাঝে আপনাকে সাপোর্টিভ প্রেমিকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে, আপনারা জানেন কাপ জেতার জন্য আমি কাকে সমর্থন করছি।’ প্রেমের এ দোহাই ট্রুডোকে কতটা রক্ষা করবে কে জানে।

৫৩ বছর বয়সী জাস্টিন ট্রুডো এবং ৪১ বছর বয়সী পপ সুপারস্টার কেটি পেরিকে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। তবে বেশিদিন ডুবে ডুবে জল খাননি তারা। ওই বছরের ডিসেম্বরেই ইনস্টাগ্রামের একটি পোস্টের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সম্পর্কের কথা নিশ্চিত করেন।

 

এর আগে টিভি উপস্থাপক সোফি গ্রেগোয়ারের সঙ্গে ট্রুডোর ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবন শেষ হয় ২০২৩ সালে। কেটি পেরিও ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইংলিশ কমেডিয়ান রাসেল ব্র্যান্ডের সঙ্গে সংসার করেন।

কানাডিয়ানরা যতই গালাগাল করুক, কেটি পেরি নিশ্চয়ই এমন দায়িত্ববান, সাপোর্টিভ প্রেমিক পেয়ে খুশি।

এই বিভাগের আরও খবর