আন্তর্জাতিক

খাদ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী, চরম ভোগান্তিতে ইরানিরা

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Monday, May 11, 2026 14

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে দেশটির লাখো পরিবার খাদ্যসংকটের মুখে পড়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার এক বৈঠকে বলেন, “দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও সীমাবদ্ধতা জনগণকে বাস্তবভাবে বুঝতে হবে।” যুদ্ধবিধ্বস্ত স্থাপনা পুনর্গঠন নিয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে তিনি জাতীয় ঐক্য ও জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানান।

 

এর একদিন আগে ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্র জানায়, পারস্য বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস ফারভারদিনে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশে। একই সময়ে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ভয়াবহ ১১৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে। কঠিন ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ৩৭৫ শতাংশ, তরল তেলের ৩০৮ শতাংশ, আমদানি করা চালের ২০৯ শতাংশ এবং দেশীয় চালের ১৭৩ শতাংশ। এছাড়া মুরগির মাংসের দাম বেড়েছে ১৯১ শতাংশ।

 

তেহরানের এক বাসিন্দা বলেন, “গত মাসেও যেসব জিনিস কিনতে পারতাম, এখন সেগুলোর অনেক কিছুই কেনা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু আমি নই, সমাজের বেশিরভাগ মানুষই একই সংকটে আছেন।”

রাজধানীর একটি কাবাবের দোকানে কর্মরত মাজিদ নামে এক যুবক জানান, গত কয়েক মাসে তাদের দোকানে তিন দফা দাম বাড়াতে হয়েছে। তিনি বলেন, “সরবরাহকারীরা কখনও সংকট, কখনও রপ্তানির অজুহাত দিচ্ছে। বাজারে কার্যকর তদারকি নেই।”

 

এদিকে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মানও রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। খোলা বাজারে বর্তমানে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের বিনিময় হার প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগে ছিল প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার।

সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে নগদ ভাতা ও ইলেকট্রনিক কুপন দিচ্ছে। তবে প্রতি ব্যক্তির জন্য মাসিক সহায়তার পরিমাণ ১০ ডলারেরও কম হওয়ায় তা সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

সরকার মূল্যবৃদ্ধির জন্য যুদ্ধ, মজুতদারি ও বাজারে কৃত্রিম সংকটকে দায়ী করছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশটির কট্টরপন্থী রাজনীতিক ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের একটি অংশ দাবি করছে, এই মূল্যবৃদ্ধি “শত্রুদের অর্থনৈতিক প্রতিশোধ”।

 

সংঘাতের প্রভাবে টানা ৭২ দিন ধরে ইরানে ব্যাপক ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণও চলছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, এতে দেশের নতুন উদ্যোক্তা ও অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ সব মিলিয়ে ইরানের সাধারণ মানুষ এখন চরম অর্থনৈতিক চাপে দিন কাটাচ্ছেন।

এই বিভাগের আরও খবর