আন্তর্জাতিক

ফান্ড নয়, ইরানে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ দেবে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Wednesday, June 17, 2026 42

অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার সরাসরি অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন দাবি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও মার্কিন প্রশাসন বলছে, বিষয়টি সে রকম নয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত অর্থ কোনো অনুদান, ক্ষতিপূরণ বা সরকারি সহায়তা নয়। বরং সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত পূরণ করলে ইরানে আন্তর্জাতিক বেসরকারি বিনিয়োগের পথ সহজ করা হবে, যা দেশটির অর্থনীতিতে বড় অঙ্কের অর্থ প্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা সম্প্রতি চলমান সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগভিত্তিক তহবিল নিয়ে আলোচনা চলছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো সরকারি তহবিল নয়; বরং বিভিন্ন দেশের কোম্পানি ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অর্থায়নের মাধ্যমে গঠিত হবে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অংশের জন্য আগ্রহ ও প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

 

এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, “আমরা ইরানকে টাকা দিচ্ছি না। আমরা শুধু বলছি, তারা যদি তাদের আচরণ পরিবর্তন করে এবং চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তাহলে অন্য দেশগুলোকে সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে।” তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার কারণে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা কোম্পানি ইরানে বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারে না। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে সেই বাধা আংশিকভাবে দূর হতে পারে।

 

ভ্যান্স আরও ইঙ্গিত দেন যে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে গঠিত একটি বিনিয়োগ কাঠামোর মাধ্যমে ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। তবে এর জন্য তেহরানকে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত, বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক তদারকি সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ থেকে ইরানকে কোনো অর্থ দেওয়া হবে না।

রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগ তহবিলে যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় অঞ্চল, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও সম্ভাব্য অংশগ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

 

সম্ভাব্য বিনিয়োগের অর্থ জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদন শিল্প, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত ক্ষতিগ্রস্ত খাত পুনর্গঠনে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্পাত শিল্প, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আধুনিকায়ন ও পুনর্নির্মাণও এর আওতায় আসতে পারে।

তবে এই তহবিল এখনই কার্যকর হচ্ছে না। চূড়ান্ত ও গ্রহণযোগ্য একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পরই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হবে। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর প্রায় ৬০ দিনের মধ্যে সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিতকরণ এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনার কাজ শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

এর আগে ইরান যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ক্ষতিপূরণ বা সরকারি অর্থ দিতে অনাগ্রহী হওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর এই কাঠামো বিকল্প সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে।

দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অনেকাংশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। অথচ দেশটিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ এবং অন্যতম বৃহৎ তেল সম্পদ রয়েছে। প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী, বৈচিত্র্যময় শিল্পভিত্তি এবং পেট্রোকেমিক্যাল, খনিজ, কৃষি ও পর্যটন খাতে বিপুল সম্ভাবনার কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

 

তবে চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিধি এবং তহবিল পরিচালনার কাঠামো নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। ফলে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের এই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভবিষ্যৎ সমঝোতার ওপর।

এই বিভাগের আরও খবর