বাংলাদেশ

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূয়সী প্রশংসা করলো জাতিসংঘ

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Saturday, May 30, 2026 1

অনলাইন ডেস্ক : যুদ্ধ, সংঘাত ও অনিশ্চয়তায় জর্জরিত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। দায়িত্ব পালনের পথে জীবন বাজি রাখা এসব সদস্যের সাহস, আত্মত্যাগ ও পেশাদারিত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের অবদানের উচ্চ প্রশংসা করেছে জাতিসংঘ।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছে সংস্থাটি। শুক্রবার (৩০ মে) প্রকাশিত এক বার্তায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানায়।

 

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে ৫০ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে চার হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী রয়েছেন, যা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণেরই প্রতিফলন।

 

এ বছরের শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ (Investing in Peace)। জাতিসংঘের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আর্থিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।Politics

বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শান্তিরক্ষীদের নিরলস কাজ বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। তাদের অবদান শান্তিতে বিনিয়োগের গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

 

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সংকটপূর্ণ অঞ্চলে শান্তিরক্ষীরা বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দিচ্ছেন, উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করছেন এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করছেন। পাশাপাশি তারা ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, নির্বাচন আয়োজন এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

 

তিনি জানান, ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে গত বছর নিহত হয়েছেন ৫৯ জন। শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গুতেরেস শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে বিশ্বে স্থিতিশীলতা ও আশার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নির্ভরযোগ্য অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

দিবসটি উপলক্ষে আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মহাসচিব। এ সময় নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে এবং মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ‘ইউএন মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘ইউএন ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও প্রদান করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর