বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন
অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Wednesday, May 27, 2026 2
অনলাইন ডেস্ক : ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং কঠোর মুদ্রানীতির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দুই মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে কমেছে রুপার দামও। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইরান সংঘাতের কোনো স্পষ্ট সমাধান না থাকায় বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বুধবার (২৭ মে) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৪৪.৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে দাম ২৭ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১.২ শতাংশ কমে ৪,৪৪৫.২০ ডলারে নেমেছে।
জেনার মেটালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র মেটালস স্ট্র্যাটেজিস্ট পিটার গ্রান্ট জানান, সবচেয়ে বড় প্রভাব এখনও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিরই। শুরুতে কিছুটা আশাবাদ থাকলেও সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই আশাবাদ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। চলমান এই যুদ্ধ মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইস্রায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মূল্যবান ধাতুর বাজার চাপের মধ্যে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে সুদের হার আরও বাড়তে পারে; এমন আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কাঠামোগত চুক্তির আওতায় তেহরান এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী নৌচলাচল পুনরায় চালু করবে। এর অংশ হিসেবে ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনীও প্রত্যাহার করা হবে। এই খবর প্রকাশের পর স্বর্ণের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা কমে যায়।
তবে বাজার এখনো জ্বালানি-নির্ভর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব দেখছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছরের শেষ নাগাদ তাদের বেঞ্চমার্ক সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সুদবিহীন এই ধাতুর ওপর চাপ তৈরি হয়।
মিনিয়াপোলিস ফেডের প্রেসিডেন্ট নীল কাশকারি জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ফেডকে মনোযোগী থাকতে হবে। তবে বর্তমান সুদের হার কবে পরিবর্তন করা হতে পারে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা বুঝতে বিনিয়োগকারীরা এখন বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য মার্কিন ব্যক্তিগত ভোগব্যয়ের তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ২.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪.৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ব্যাংক অব আমেরিকা এক নোটে জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে স্বর্ণের দাম বাড়লে রুপার দাম আবার আউন্সপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে যেতে পারে। তবে মৌলিক চাহিদা কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় সেই উচ্চমূল্য ধরে রাখা কঠিন হবে বলে তারা মনে করছে।
এদিকে প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ কমে ১,৯১৯.৩০ ডলারে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ১,৩৮৪.৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
