আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Wednesday, June 3, 2026 5

অনলাইন ডেস্ক : অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর কাজের পরিধি নিয়ে রেষারেষির জেরে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশ্লেষণমূলক যৌথ কাজগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সাধারণত জটিল বৈদেশিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবহার করে থাকেন।

 

২ জুন মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অভ্যন্তরীণ লড়াই এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করতে ২০০৪ সালে তৈরি করা হয় ‘অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স’ বা ওডিএনআই। এর উদ্দেশ্য ছিল সব গোয়েন্দা সংস্থার অভিভাবক হিসেবে কাজ করা এবং সবার তথ্য এক জায়গায় এনে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ব্রিফ করা। কিন্তু সিআইএ নিজেকে মার্কিন গোয়েন্দা ব্যবস্থায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়ে। ফলে শুরু থেকেই এই দুই সংস্থার মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চলছে।

 

সিআইএ-র যুক্তি হলো, তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, মাঠপর্যায়ে শত শত কোটি ডলার খরচ করে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে। কিন্তু সেই তথ্য যদি ওডিএনআইকে দিয়ে দিতে হয়। এর ফলে সিআইএ-র তথ্যের গোপনীয়তা বা সোর্সের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে এবং তাদের নিজেদের একক গুরুত্ব কমে যায়। এছাড়া কোন সংস্থা কত বাজেট পাবে এবং কার কাজের সীমানা কতটুকু—তা নিয়েও চলে বিতর্ক।

 

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওডিএনআই-এর পরিচালক হিসেবে তুলসী গ্যাবার্ড দায়িত্ব নেয়ার পর এই বিরোধে চরমে পৌঁছায়। তিনি দায়িত্ব নিয়েই প্রেসিডেন্টের প্রতিদিনের অত্যন্ত গোপনীয় গোয়েন্দা ব্রিফিং তৈরির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন, যা ঐতিহ্যগতভাবে সিআইএ-ই প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছিল। এরপর গোয়েন্দা সংস্থায় ‘রাজনৈতিক প্রভাব’ দূর করার নামে গ্যাবার্ড বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করলে দূরত্ব আরও বাড়ে।

 

গত বছরের মে মাসে গ্যাবার্ড সিআইএ-র দুজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেন। এরপর আগস্টে তিনি ৩৭ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বাতিল করেন, যার ফলে বিদেশে কর্মরত সিআইএ-র এক ছদ্মবেশী কর্মকর্তার পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়।

 

তীব্র বিতর্কের মধ্যেই তুলসী গ্যাবার্ড গত সপ্তাহে ঘোষণা দিয়েছেন, স্বামীর অসুস্থতার কারণে আগামী ৩০ জুন তিনি পদত্যাগ করবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরইমধ্যে বিল পুলটেকে ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে বিল পুলটে ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা কার্যক্রমে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা না থাকায় এই নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, পুলটে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজারের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয় পরিচালনায় গভীর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সমালোচকদের মতে, পুলটে গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের চেয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য বেশি পরিচিত। ফলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এই "আমলাতান্ত্রিক শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই" বন্ধে পুলটে কী ব্যবস্থা নেন সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এই বিভাগের আরও খবর