মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অপপ্রচার চলছে...
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়েও ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
দেখুনঃ শেখ হাসিনাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী
রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। অপপ্রচার বন্ধে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে মাহদী আমিন বলেন, লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ও ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় অনেক সময় সত্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করেও মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তার মতে, এমন প্রবণতা রাজনীতির সংস্কৃতির অংশ হওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশের পর সেটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার হয়েছে। অথচ ছবিটি হোয়াইট হাউস থেকেই প্রকাশ করা হয়েছে এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসও তা শেয়ার করেছে।
প্রধানমন্ত্রী ও ট্রাম্পের সাক্ষাৎ এবং ছবির বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, সত্য ও ন্যায্য বিষয় আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। মার্কিন দূতাবাস নিজেই ছবিটি প্রকাশ করেছে, এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ হওয়া স্বাভাবিক। তাদের মধ্যে আন্তরিক ও স্বতঃস্ফূর্ত আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়েও ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, একটি অনুষ্ঠানে জুবাইদা রহমান একজন বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করবেন—এমন তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। পরে আয়োজকরাই বিষয়টি সঠিক নয় বলে নিশ্চিত করেছেন।
জাইমা রহমানকে নিয়েও অপপ্রচার হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মাহদী আমিনের ভাষ্য, জাইমা রহমান নিজের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে জাতিসংঘে চাকরি পেয়েছেন এবং এর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। এরপরও তার চাকরি সরকার দিয়েছে—এমন প্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপিকে ঘিরেও বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন মাহদী আমিন। সম্প্রতি এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে ঘটনাটির ভিন্ন বাস্তবতা সামনে এসেছে। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট জায়গাটি অবৈধ হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ তৈরি হয়েছিল এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক ছিল না।
তবে ভাঙচুরের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গ্রেপ্তার, মামলা ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, এসব ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার ও ভিউ হলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার ন্যূনতম সম্পর্ক থাকে না। তাই সত্য ও ন্যায্য বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি অনৈতিক ও অন্যায্য বিষয়ও নির্মোহভাবে তুলে ধরতে হবে।
বর্তমান সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। অতীতে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে মানুষ ভয় পেলেও এখন প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবার এবং ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা ও প্রচারণা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি সব রাজনৈতিক পক্ষকে পারস্পরিক সম্মান, সহাবস্থান ও সৌজন্য বজায় রেখে গঠনমূলক রাজনীতির চর্চার আহ্বান জানান।
কুষ্টিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নামে কটূক্তির অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষককে থানায় নেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন এবং ওই শিক্ষককে পুলিশি পাহারায় সম্মানের সঙ্গে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
মাহদী আমিন বলেন, বাকস্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সবার সহাবস্থান, পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্য নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত লক্ষ্য। একইসঙ্গে সরকারের সমালোচনা করতে চাইলে তা যুক্তিসংগত ও গঠনমূলকভাবে করার আহ্বান জানান তিনি।
‘বিরোধী দল মানেই সব বিষয়ে বিরোধিতা করা নয়’ মন্তব্য করে তিনি রাষ্ট্রের সম্মান ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও জনগণের ক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করেছেন দাবি করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে সম্মাননা পেয়েছেন, সেটি শুধু বিএনপির নয়, পুরো বাংলাদেশের সম্মান।
সবশেষে মাহদী আমিন বলেন, অযথা বিতর্ক, অপপ্রচার ও অশালীন আচরণ থেকে বেরিয়ে এসে সব রাজনৈতিক দলের সুস্থ গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা করা উচিত। পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে সত্য ও সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।