ই-পেপার

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর

আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২০:২৪
১১ ভিউ
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর শিক্ষার মান বাড়াতে ৩০ কোটি ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ।

শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ নামের এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। শিশুদের শ্রেণি অনুযায়ী পড়া, লেখা ও গণিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করাই এর মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে সরকারের ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ বাস্তবায়নেও এ অর্থায়ন কাজে আসবে।

বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার থাকলেও শিক্ষার মান নিয়ে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দেশের ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশ বয়স উপযোগী সাধারণ লেখা পড়তে ও বুঝতে পারে না। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ মালয়েশিয়ায় এ হার ৪২ শতাংশ, আর ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসম বলেন, বিশ্বপর্যায়ে প্রতিযোগিতায় সক্ষম কর্মশক্তি তৈরির ভিত্তি হলো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। গত দুই দশকে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ বাংলাদেশে প্রায় সব শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে। নতুন অর্থায়ন শিশুদের শেখার মান বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ে ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভালো চাকরি পাওয়ার ভিত্তি তৈরি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। সরকারি বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় ২ কোটির বেশি শিশু পড়াশোনা করছে।

নতুন কর্মসূচিতে সাক্ষরতা ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্যাকেজ চালু করা হবে। এর মধ্যে থাকবে পাঠদানের উপকরণ, পরিকল্পিত পাঠক্রম ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ। এ ছাড়া দেশের ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নেতৃত্ববিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও কর্মসূচির টিম লিডার তাশমিনা রহমান বলেন, ভালো চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে মৌলিক শিক্ষার শক্ত ভিত্তি জরুরি। কোনো শিশু যাতে পিছিয়ে না থাকে, সে জন্য কর্মসূচিতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা বা রেমিডিয়াল লার্নিং চালু করা হবে। বিশেষ করে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোতে এ উদ্যোগে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।

তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের দক্ষতা ও বিদ্যালয় পর্যায়ে নেতৃত্বের উন্নয়ন, বাজেট ব্যবহারে জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্যের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতেও কর্মসূচিটি সহায়তা করবে।

এ কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে। এতে শ্রেণিকক্ষে পড়া, লেখা ও গণিতের মৌলিক বিষয়গুলো আরও কার্যকরভাবে শেখানো সম্ভব হবে। বিশ্বব্যাংকের আশা, এর ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মানও বাড়বে। শিশুদের শিক্ষাজীবনের শুরু হবে আরও মজবুত ভিত্তির ওপর, পাশাপাশি বিদ্যালয়ে ভর্তির আগের প্রস্তুতিও উন্নত হবে।

বিশ্বব্যাংকের ধারণা, কর্মসূচিটির মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, যেখানে তুলনামূলক ভালো বেতন পাওয়া যাবে।

ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) কর্মসূচিটির অর্থায়ন করছে। সংস্থাটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অংশ এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহায়তা দিয়ে থাকে। এ কর্মসূচির মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর ঋণ পরিশোধের গ্রেস পিরিয়ড বা অব্যাহতিকাল হিসেবে রাখা হয়েছে।