ই-পেপার

ভারতে বিক্ষোভ ঘিরে দমন-পীড়ন, প্রতিবাদে সব বলিউড শিল্পীরা

ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলন

আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩৭
১৮ ভিউ
ভারতে বিক্ষোভ ঘিরে দমন-পীড়ন, প্রতিবাদে সব বলিউড শিল্পীরা

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলন এখন শিক্ষা খাতের অনিয়ম, তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রতিবাদের মঞ্চ হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র ও সংগীতজগতের একাধিক তারকা।

তাদের মধ্যে রয়েছেন অভিনয়শিল্পী শাবানা আজমি, নাসিরউদ্দিন শাহ, প্রকাশ রাজ, নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ, ভিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে, অভিনেতা মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব, কৌতুকশিল্পী বীর দাস ও সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটকের নিন্দা জানিয়েছেন তাঁরা।

২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন শাবানা আজমি। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে নাগরিকদের সচেতন থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল, মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রতিবাদ করার অধিকারও অক্ষুণ্ন থাকা উচিত।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের সঙ্গে তাঁর আলিঙ্গনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শাবানা আজমি ও নাসিরউদ্দিন শাহ—দুজনই দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করে আসছেন। এবারও তাঁদের উপস্থিতি আন্দোলনের প্রতি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংহতির দিকটি সামনে এনেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি কার্টুন পোস্ট করেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। কার্টুনটি এঁকেছেন সতীশ আচার্য। এর সঙ্গে প্রকাশ রাজ লেখেন, ‘নাগরিকদের প্রতিবাদ আর কত দিন এড়িয়ে যাবেন?’ পরে একটি উড়োজাহাজ থেকে ভিডিও পোস্ট করে আটক হওয়া সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

প্রকাশ রাজ বলেন, ‘এটা কী হচ্ছে? উড়োজাহাজ ও বাড়ি থেকে তরুণদের আটক করা হচ্ছে? তাদের বিক্ষোভস্থলেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না? আপনারা আমাদের কণ্ঠকে গ্রেপ্তার করেননি, বরং নিজেদের গ্রেপ্তার করেছেন। এই দেশকে গণতন্ত্র ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না। লড়াই দীর্ঘ হবে, আমরা প্রশ্ন করে যাব। খেলা শুরু হোক! পুরো দেশ দেখছে।’

নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘দো দরপোক, ৪০ হাজার গুলাম, লাখো বাহাদুর।’ বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায়, ‘দুজন ভীতু, ৪০ হাজার দাস, লাখো সাহসী।’ এ ছাড়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরার লাইভ সম্প্রচার দেখার জন্য অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। দিল্লি হাট এলাকায় কয়েক শ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নেহা। পরে তাকেও আটক করে পুলিশ।

চিত্রনাট্যকার ও সম্পাদক অপূর্ব আসরানি লিখেছেন, ‘আমাকে বলুন, এটা একনায়কতন্ত্র নয়।’ পোস্টের ক্যাপশনে তিনি আরও লেখেন, ‘গণতন্ত্রের সমাপ্তি।’ নির্মাতা ভিক্রমাদিত্য মোতওয়ানেও দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের আটকের প্রতিবাদে একাধিক ইনস্টাগ্রাম স্টোরি প্রকাশ করেন। অভিনেতা মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব এক্সে জার্মান নাট্যকার ও নাট্যতাত্ত্বিক বের্টোল্ট ব্রেখটের একটি কবিতার হিন্দি অনুবাদ পোস্ট করেন।

সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে পুরো বিশ্ব দেখছে, একজনকে বাঁচাতে ব্যবস্থা কত দূর যেতে পারে। এই ব্যবস্থাই দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যাচ্ছে, তাদের প্রতিবাদ করার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।’

নির্মাতা শিরীষ কুন্দরও এক্সে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘নিজের দেশের মানুষের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বলপ্রয়োগ করতে হলে আর কত দিন টিকে থাকা সম্ভব?’

আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শিশুরাও যখন আপনাকে নিয়ে বিদ্রূপ করতে শুরু করে, তখন বুঝতে হবে, আপনাকে আর কেউ ভয় পায় না।’