ই-পেপার

গ্রিন কার্ড কর্মসূচিতে ভারতীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় বাধার মুখে পড়েছে

আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৭
৪৯ ভিউ
গ্রিন কার্ড কর্মসূচিতে ভারতীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় বাধার মুখে পড়েছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্থায়ী শ্রম সার্টিফিকেশন কর্মসূচি (পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম বা পিইআরএম) থেকে আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। তালিকায় রয়েছে কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, এইচসিএল, ক্যাপজেমিনি, মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মার্কিন শ্রমসচিব কিথ সন্ডারলিং এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিভিন্ন কর্মসূচির অপব্যবহার করেছে এবং এর ফলে মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সন্ডারলিং জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নতুন কোনো স্থায়ী শ্রম সার্টিফিকেশন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আগে জমা পড়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াকরণও স্থগিত থাকবে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে এসব প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মীর জন্য আবেদন করেছে। এ সময়ে তারা দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসার অনুমোদন এবং এক লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সার্টিফিকেশন পেয়েছে।

স্থায়ী শ্রম সার্টিফিকেশন কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা বিদেশি কর্মীর জন্য স্থায়ী বসবাসের আবেদন এগিয়ে নিতে পারেন। তবে এই কর্মসূচি থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান স্থগিত হওয়া মানেই তার সব বিদেশি কর্মীর এইচ-১বি ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়া নয়।

মাইক্রোসফটকে বিশেষভাবে আক্রমণ করেছেন ভ্যান্স। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে প্রায় ছয় হাজার মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করার পরও বিপুলসংখ্যক এইচ-১বি ভিসার অনুমোদন পেয়েছে। তাঁর দাবি, একই সময়ে মাইক্রোসফট প্রায় তিন হাজার ৬৮২টি স্থায়ী শ্রম সার্টিফিকেশনের আবেদন জমা দেয়, যার মধ্যে প্রায় এক হাজার আবেদন ছাঁটাই হওয়া মার্কিন কর্মীদের করা কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য ছিল।

ভ্যান্সের অভিযোগ, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের নিয়োগের যথাযথ চেষ্টা না করেই বিদেশি কর্মী আনার ব্যবস্থা করছে। তাঁর মতে, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার করে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি ও চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তারা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারেন। ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মসূচির অন্যতম বড় সুবিধাভোগী। ফলে পিইআরএম কর্মসূচি থেকে ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো স্থগিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সংগঠন ন্যাসকম জানিয়েছে, অভিবাসন এবং দক্ষ কর্মীদের আন্তর্জাতিক চলাচল এক বিষয় নয়। সংগঠনটির মতে, যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে এইচ-১বি কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় নিয়োগ বাড়িয়েছে এবং নিজস্ব কর্মীভিত্তি শক্তিশালী করেছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।

ন্যাসকম আরও বলেছে, ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে কাজ করে তাদের উদ্ভাবন ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। সংগঠনটির মতে, অভিবাসনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীদের চলাচল এবং স্থায়ী বসবাসের আবেদনকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এদিকে, ভ্যান্স বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কিছু ভিসা কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মজুরির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস