ই-পেপার

শান্তিতে নোবেলজয়ী কে এই নাভি পিল্লে

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয়

আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩১
২১ ভিউ
শান্তিতে নোবেলজয়ী কে এই নাভি পিল্লে

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।

শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কারের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ এই নারী বিচারকের নাম ঘোষণা করেছে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।

কমিটি জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তবে এ বছর পুরস্কারের জন্য ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি ছিল বিভিন্ন সংগঠন।

১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম নেওয়া পিল্লে বর্ণবৈষম্য ও বর্ণবাদী শাসনের সময়ে আইন পেশায় যুক্ত হন। কাঠামোগত বৈষম্য, বিভাজন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কাজ করার পাশাপাশি তিনি নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন।

কর্মজীবনে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন নাভি পিল্লে।

সম্প্রতি তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। বর্তমানে তিনি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নোবেল কমিটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আদালতের গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোতে পিল্লে দেখিয়েছেন, আইনি পদক্ষেপ যুদ্ধ ও সহিংসতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতেও তার অবদান রয়েছে। তার স্বাধীনচেতা অবস্থান, দক্ষতা ও দৃঢ়তা তাকে সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম শ্রদ্ধেয় আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞে পরিণত করেছে।

রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক থাকাকালে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অংশ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। একই মামলায় প্রচারণার মাধ্যমে গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রথমবারের মতো একজন আসামির বিচারের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

নোবেল কমিটির মতে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অহিংস সমাধানের ভিত্তি। পিল্লে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্র ও ব্যক্তির আইনের প্রতি দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছেন।

কমিটি বলেছে, বিচারক ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যখন নিষেধাজ্ঞা ও আক্রমণের মুখে পড়ছে, তখন নাভি পিল্লেয়ের মতো সাহসী, দূরদর্শী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্তিদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি তার অঙ্গীকার আরো শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে আগ্রহীদের অনুপ্রেরণা জোগায়।