গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তীব্র
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার অভিযোগ তুলে ধরেন।
তার বক্তব্যের সময় ইসরায়েলি প্রতিনিধি দল অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়, আর ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান। কাতারভিত্তিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
এরদোয়ান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় তুরস্কও ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু তথাকথিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ১ হাজার ৩০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কাঠামোর দ্বিতীয় ধাপ মেনে নিলেও ইসরায়েল গাজা ও পশ্চিম তীরে তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করেনি। পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গাজাকে ‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক বন্দিশিবির’ হিসেবে বর্ণনা করে এরদোয়ান বলেন, সেখানে এমন একটি ‘গণহত্যামূলক মানসিকতার’ মুখোমুখি বিশ্ব, যা হত্যায় কখনো তৃপ্ত হয় না। মানবতা, সহমর্মিতা ও বিবেকসম্পন্ন কেউ এ পরিস্থিতির দিকে চোখ ফিরিয়ে রাখতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এরদোয়ান জাতিসংঘেরও সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছে। ৮১ বছর আগে বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এটি ‘অকার্যকর’ হয়ে পড়েছে এবং ফিলিস্তিন, লেবানন ও সুদানে সংকটের মধ্যে ‘রক্তক্ষরণ’ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভাষণে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের অনুপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেন এরদোয়ান। যুক্তরাষ্ট্র আব্বাসকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ভিসা না দেওয়ায় তিনি সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি। এ নিয়ে এরদোয়ান বলেন, আব্বাস উপস্থিত না থাকলেও তুরস্ক মুক্ত ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর হিসেবে কথা বলে যাবে।
এ বছরও যুক্তরাষ্ট্র আব্বাস ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের ভিসা দেয়নি। তবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আব্বাসকে পূর্বধারণকৃত ভিডিও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
ভাষণের শেষদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখেই এই যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে।
এরদোয়ানের বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে গাজা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও ইউক্রেন যুদ্ধ অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।