ই-পেপার

মধ্যপ্রাচ্যের পথে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমানবাহী রণতরি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর

আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৫
৩৬ ভিউ
মধ্যপ্রাচ্যের পথে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমানবাহী রণতরি

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে ওই অঞ্চলে পাঠিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে টানা প্রায় ২০০ দিন কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে অবস্থান করেছে রণতরিটি। দীর্ঘ সময় ধরে এমন টানা মোতায়েনের কারণে এতে কর্মরত নাবিকদের জীবনযাত্রার মান, কর্মপরিবেশ ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

গত বছরের নভেম্বরে আব্রাহাম লিংকনকে মোতায়েন করা হয়। পরে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের আগে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়। যুদ্ধ চলাকালে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে রণতরি ও এর যুদ্ধবিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তী সময়ে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর রাখার কার্যক্রমেও রণতরিটি যুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা সামরিক দায়িত্বের কারণে রণতরিটির নাবিকেরা চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। তাঁদের জীবনযাত্রার মান ও কর্মপরিবেশ নিয়ে পেন্টাগনের কাছে বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান হুং কাওয়ের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল রণতরিটিতে মৌলিক সামগ্রীর ঘাটতি, পানি দূষণ, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, ডেকের নিরাপত্তা এবং ডাক ব্যবস্থায় বিঘ্নের অভিযোগ তুলেছেন।

ব্লুমেনথাল আরও অভিযোগ করেন, রণতরিতে পাঠানো অনেক পার্সেল এবং পরিবারের সদস্যদের পাঠানো প্রয়োজনীয় সামগ্রী পথে হারিয়ে গেছে। কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও এসব সামগ্রীর অনেকগুলোর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

মার্কিন প্রতিনিধি মার্লিন স্টুটজম্যানও আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার সিএনএনকে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি পেন্টাগন ও মার্কিন প্রশাসনের কাছে নতুন করে তথ্য চাইবেন।

স্টুটজম্যান বলেন, যারা দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের অন্তত এই নিশ্চয়তা পাওয়া উচিত যে দায়িত্ব পালনের সময় তাদের যথাযথ যত্ন নেওয়া হচ্ছে।

আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে জর্জ ওয়াশিংটনকে পাঠানোর পরিকল্পনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে নতুন রণতরি মোতায়েনের এই পরিকল্পনাকে শুধু নিয়মিত প্রতিস্থাপন নয়, বরং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তবে জর্জ ওয়াশিংটন ঠিক কবে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে এবং আব্রাহাম লিংকন কখন দায়িত্ব থেকে সরে যাবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।