আন্তর্জাতিক

দীর্ঘায়ুর সন্ধানে পুতিনের ২৬ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Saturday, May 30, 2026 2

অনলাইন ডেস্ক : মানুষের আয়ু বাড়াতে এবার বড় পরিসরের একটি রাষ্ট্রীয় প্রকল্প হাতে নিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়, বরং কোষের বার্ধক্য রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নিউ হেলথ প্রিজারভেশন টেকনোলজিস’ নামের এ প্রকল্পে রুশ সরকার প্রায় ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। তবে এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭৩ বছর বয়সী পুতিনের প্রত্যক্ষ আগ্রহে পরিচালিত এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো এমন জিন থেরাপি উদ্ভাবন করা, যা কোষের বার্ধক্যের গতি ধীর করতে পারে। রাশিয়ার উপ-বিজ্ঞানমন্ত্রী দেনিস সেকিরিনস্কি একে বার্ধক্য প্রতিরোধে সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক প্রযুক্তিগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

শুধু জিন থেরাপিই নয়, প্রকল্পটির আওতায় বায়োপ্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে শূকরের শরীরে মানুষের অঙ্গ তৈরি ও প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও গবেষণা চলছে। সরকারি সহায়তায় কাজ করা বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে পরীক্ষাগারে ইঁদুরের থাইরয়েড গ্রন্থি এবং মানুষের কার্টিলেজ টিস্যু তৈরিতে সাফল্যের দাবি করেছেন। তাদের আশা, চলতি দশকের শেষ নাগাদ প্রতিস্থাপনের উপযোগী মানব অঙ্গ তৈরি করা সম্ভব হবে। পুতিনও আগে দাবি করেছিলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করা যেতে পারে।

 

এই প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছেন পুতিনের কন্যা ও হরমোন বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভোরোন্তসোভা। তার সঙ্গে কাজ করছেন প্রখ্যাত রুশ পদার্থবিদ মিখাইল কোভালচুক। তাদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে।

 

তবে প্রকল্পটি নিয়ে সংশয়ও কম নয়। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একাংশের অভিযোগ, গবেষণার ফলাফল বা তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যালোচনার জন্য প্রকাশ করা হয় না। ইউক্রেন যুদ্ধের পর দেশত্যাগী রুশ বায়োপ্রিন্টিং বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার অস্ত্রভস্কি বলেন, কোনো গবেষণাপত্র প্রকাশ না হওয়া মানে কার্যকর ফলাফলের অভাবের ইঙ্গিত হতে পারে।

 

সমালোচকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা পুতিনকে সন্তুষ্ট রাখা এবং গবেষণা তহবিল নিশ্চিত করতেই কিছু বিজ্ঞানী অতিরঞ্জিত আশার ছবি তুলে ধরছেন। ফলে দীর্ঘায়ু নিয়ে পুতিনের আগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ২৬ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প এখন বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যকার এক আলোচিত বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর